পেকুয়ায় ভবন দখলের প্রতিবাদে স্কুলের মানববন্ধন

20180318_113756.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:
পেকুয়ায় ভবন জবরদখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করল সোনালী কিন্ডার গার্টেন নামের প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থী। রবিবার ১৮ মার্চ সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসুচী পালিত হয়েছে। এ সময় প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থীসহ সোনালী কেজি স্কুলের শিক্ষকগন মানববন্ধন কর্মসুচীতে সমবেত হন। স্কুল ভবন জবর দখলের প্রতিবাদে সোনালী কিন্ডার গার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষ এ মানববন্ধন আহবান করে। এ সময় পেস্টুন, প্লে-কার্ড,ব্যানারসহ শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে সোনালী বাজারে মানববন্ধন কর্মসুচীতে অংশ নেয়। বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্কুল জবরদখল কারীদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়। এমনকি যে সব দুবৃর্ত্তরা শ্রেনীকক্ষ সহ স্কুল ভবন জবর দখলে নেয় এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করা হয়েছে ওই কর্মসুচী থেকে। প্রায় ৩০ মিনিট সোনালী বাজারে এ কর্মসুচীতে শান্তিপূর্ন অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সুত্র জানায়, সোনালী কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ১ টি ভবন জবরদখলে নেয় দুবৃর্ত্তরা। এ সময় ওই ভবনের তিনটি কক্ষ তারা রাতারাতি দখলে নিয়ে ফেলে। জবরদখলের কু মানসে ওই চক্র সদ্য নির্মিত স্কুল ভবনের সেমিপাকা তিনটি কক্ষে মহিলা অনুপ্রবেশ করায়। শিক্ষা কার্যক্রম বেগবান করতে কর্তৃপক্ষ ওই ভবনটি গত ১ মাস আগে নির্মান করে। ৬ষ্ট শ্রেনী থেকে ৮ম শ্রেনীর ক্লাস চলছিল ওই ভবনে। সুত্র জানায়, একই এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী, বোন ছেনুয়ারা ও মিনু আরা গত ১৫ মার্চ সকালে ভবন জোরপূর্বক দখলে নেয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ নিষেধ করছিল। এর সুত্র ধরে সোনালী বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেন। স্কুলের ভবন ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। সোনালী কিন্ডার গার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী পেকুয়া থানায় অভিযোগ দেয়। থানায় বৈঠক হয়েছে। তবে জবর দখলকারীরা কাগজপত্র ও জায়গার দলিলাদি দেখাতে ব্যর্থ হয়। উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম,শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। স্কুল ভবন এর দখল ছেড়ে দিতে মোহাম্মদ আলী গংদের নির্দেশনা দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসন করতে চেয়ারম্যান দু’পক্ষকে গ্রাম আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সুত্র জানায়, সোনালী বাজারে কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্টিত হয় ২০১০ সালে। জায়গা নিয়ে মগনামা ইউপির সাবেক সদস্য আজিজুল হক ও চেরাংঘোনার মৃত ছৈয়দ আহমদের ওয়ারিশদের বনিবনা দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানায়, ৩৪ শতক জমি কিনে আজিজুল হক। মোহাম্মদ আলী গং নি:স্বার্থবান হন। ২০১০ সাল থেকে স্কুল প্রতিষ্টার সময় এ জমি স্কুলের নামে তার চুক্তিবদ্ধ হয়। সে সময় থেকে ওই স্থানে স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জমি সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত। স্ট্যাম্প মুলে ওই জমি বিক্রি করে মোহাম্মদ আলী গং। স্কুল কর্তৃপক্ষ শ্রেনী কার্যক্রম বেগবান করতে ভবন সম্প্রসারন করে। সেমিপাকা একটি ভবন তৈরী করে তারা। ওই দিন মোহাম্মদ আলী গং এ ভবন জবর দখলে নেয়। তারা বর্তমানে স্কুল কক্ষে পরিবার নিয়ে অবস্থান নেয়। উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানায়, পরিষদে বিচার আছে। তবে এর মাঝে এক পক্ষ ভবনে ঢুকে পড়ে। আমি দুপক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলেছি। তবে মৃত ছৈয়দ আহমদের মেয়ে মিনু আরা জানায়, এ জায়গা আমাদের। কাউকে আমরা বিক্রি করেনি। সোনালী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানায়, মোহাম্মদ আলী গং ৩ টি স্ট্যাম্পমুলে আজু মেম্বারকে জায়গা বিক্রি করে দেয়। তারা অহেতুক এ সব করছে।

Top