পেকুয়ায় চেয়ারম্যান কারাগারে-জনগন করল পোষ্টার বিলি

IMG_20180320_100823-1.jpg

স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া
পেকুয়ায় চেয়ারম্যান কারাগারে-জনগন করল এলাকায় পোষ্টার বিলি। উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের মুক্তির দাবীতে এলাকায় সোচ্চার হচ্ছে জনগন। ৮ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পন করে। এ সময় জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরন করা হয়। সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরীর উপর হামলা ও রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পেকুয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। ওই মামলায় চেয়ারম্যান ওয়াসিমসহ তার পরিষদের তিনজন নির্বাচিত মেম্বারসহ বিপুল পরিমান লোকজনকে আসামী করে। ২ টি মামলায় চেয়ারম্যানসহ আসামীরা হাইকোর্ট থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। সর্বশেষ নিন্ম আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন ওই দিন আসামীরা। এরপর থেকে প্রায় ২ সপ্তাহেরও বেশী সময় চেয়ারম্যান ওয়াসিম ও ৩ জন মেম্বারসহ আসামীরা কারান্তরীন। এ দিকে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমসহ ৪ জনপ্রতিনিধির মুক্তির দাবী ত্বরান্বিত হচ্ছে তার নির্বাচনী এলাকা মগনামায়। সর্বস্তরের জনগনের তরফ থেকে তার মুক্তির দাবীতে এলাকায় প্রচারপত্র বিলি চলছে। একইভাবে মগনামাসহ পুরো পেকুয়া উপজেলাজুড়ে পোস্টার ছাটাই চলছে। অবিলম্বে চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের মুক্তির দাবীতে এ সব পোষ্টার বিভিন্ন স্থানে শোভা পেয়েছে। বলা হয়েছে ওয়াসিম চেয়ারম্যান মগনামা ইউনিয়নের সর্বজন গ্রহনযোগ্য ও এ ইউনিয়নের অবিসংবাদিত নেতা। আমরা জনগন তার মুক্তি দাবী করছি। এ দিকে চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় মগনামা ইউনিয়নে এর নীতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। দীর্ঘ ২ সপ্তাহের বেশী চেয়ারম্যান জেলে থাকায় এ ইউনিয়নের নাগরিক সেবাসমুহ থেমে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় মুলত অচলাবস্থা বিরাজ করে। কার্যালয়টি তলা দিয়ে বন্ধ রাখা হয়। চেয়ারম্যান অনুপস্থিত এর নীতিবাচক প্রভাব পড়ে এ ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সকল স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কর্মকান্ডে। বিশেষ করে দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিচারিক ব্যবস্থা থেমে গেছে। প্রশাসন যন্ত্র থেকে জনগনের ক্ষমতা পৃথকীকরন করতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছে। বিচারিক ও উন্নয়ন , নাগরিক সেবাকে গতিশীল করতে ইউনিয়ন পরিষদ সমুহকে কার্যকর করে। বর্তমান সরকার প্রশাসনিক পূর্নবিন্যাসসহ স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদসমুহকে শক্তিশালী করে। গ্রাম আদালত দেওয়ানী ও ফৌজদারী কার্যক্রম পরিচালনা করে। চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের প্রধান। একইভাবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে নাগরিক সেবার সর্বোৎকৃষ্ট খাত এ ইউনিয়ন পরিষদ। গুরুত্বপূর্ণ সকল কাগজপত্র ও তথ্যাদি ইউনিয়ন পরিষদ সরবরাহ দেয়। এ সব প্রত্যায়ন ও সত্যায়ন করেন চেয়ারম্যান। ওয়াসিম কারাগারে নিক্ষিপ্ত থাকায় এ সব মানুষ সরকারের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। স্তমিত হয়ে গেছে ইউপির সকল দাপ্তরিক কাজ। সুত্র জানায়, সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছের পৃথক দুটি মামলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে জড়ানো হয়েছে। তিনি তার সামাজিক প্রতিপক্ষ। চেয়ারম্যানকে মারধর ও রান্নাঘর পুঁড়িয়ে দেয়ার মত জঘন্য কাজে ওয়াসিম সম্পৃক্ত নেই। একইভাবে ৩ জন মেম্বার নিরাপরাধ। নুর মোহাম্মদ বদ, নুর মোহাম্মদ মাদু ও জসিম উদ্দিন সম্পূর্ন নিরাপরাধ। এরা নির্দোষ। সুত্র জানায়, ওয়াসিম জেলে গেছে। এ খবর তার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় এর প্রতিবাদে মগনামার অন্তত ১০ টি স্থানে মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, ওয়াসিম আধুনিক মগনামা বিনির্মানে অত্যন্ত পরিশ্রমী। তিনি ন্যায় ও নিষ্টার সাথে বিচারিক ক্ষমতাকে বেগবান করে। মানুষ তার গ্রাম আদালতের প্রতি আস্থাশীল। মগনামার বিপুল রাস্তাঘাট ও গ্রামীন অবকাঠামো সংষ্কার করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করে। তার মুক্তির দাবীতে সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির মিটিং এ জোরালো দাবী উঠে। চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন পেকুয়ার পক্ষ থেকেও একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মুক্তির দাবীতে বিবৃতি দেয়া হয়। ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম ও খোরশেদুল আলম জানায়, আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। একজন চেয়ারম্যানের বিপুল কাজ। জনগন সেবা থেকে বঞ্চিত। উন্নয়ন কাজ থেমে গেছে। এ ভাবে জেলে থাকলে মানুষের দুর্গতি আরও বাড়বে। হ্রাস পাবে মানুষের নাগরিক সুযোগ সুবিধাসমুহ। উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, অবশ্যই এ সব মামলা হয়রানির উদ্দেশ্যে। আমরা উপজেলা মিটিংয়ে এর তীব্র নিন্দাসহ জনপ্রতিনিধিদের মুক্তির দাবীতে সোচ্চার ছিলাম। মগনামায় উন্নয়ন বিচার ব্যবস্থাসহ নাগরিক সেবাসমুহ অকার্যকর হয়েছে। তার মুক্তি দাবী করছি।

Top