মহান স্বাধীনতা দিবস: তারুণ্যের দীপ্তশিখায় জন্মছিল বাংলাদেশ

Himu_1.jpg

বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে তারুণ্যের পিঠে চেপেই জন্ম হয়েছিল একটি স্বাধীন দেশের নাম বাংলাদেশ। ইতিহাসের পথপরিক্রমায় দেখা যায় ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর মধ্যে সংঘটিত হয় মহান ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, এরপর ’৭০-এর নির্বাচন- যার মধ্য দিয়ে বাঙালি সন্ধান পায় তার গন্তব্যের। ক্রমাগত আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি উপস্থিত হয় মাহেন্দ্র ক্ষণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি তখন জেগে ওঠে মহাবিক্রমে। সমগ্র জাতির চোখ তখন ওই এক তর্জনীর দিকে। বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা নক্ষত্রের মতোই জাতিকে পথ দেখায়, ১৯৭১-এর ৭ মার্চ জাতির চাওয়া ভাষা পেলো সেই ভাষণে, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই ঘোষনার পর ঘরে বসে থাকেনি বাংলার তরুন যুব সমাজ। মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে। সেই যুদ্ধে তারা বঙ্গবন্ধুকে আদর্শ হিসেবে সামনে রেখেই লড়ে গেছেন বাঙালি তরুণ প্রজন্ম। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আমরা নিজেদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলতে পারছি। গর্ব করে উচ্চারণ করতে পারছি, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক। অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই তারুণ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবদান বজায় ছিল। আর সেই একই ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে চলেছে আজকের তরুণ প্রজন্ম।
শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে বড় ছোট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে পথশিশুদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্কুল পরিচালনা করছে। অভুক্ত শিশুরা যেন জীবিকার সন্ধান করতে গিয়ে স্কুলে পড়তে আসা বন্ধ না করে দেয়, সেদিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা করছে খাবারেরও। এর পাশাপাশি তারা নানা রকম উদ্যোগ যেমন বিনা পয়সায় দরিদ্রদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের ব্যবস্থা, বন্যা এবং দুর্যোগে অসহায়দের সহায়তায় এগিয়ে আসা, রক্তদান ক্যাম্প, শীতের সময় বস্ত্র বিতরণ ইত্যাদি নিজেদের তাগিদে শুধুমাত্র দেশকে ভালোবেসেই গ্রহণ করছে। প্রয়োজনে তারা এসব ক্ষেত্রে প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, ফেসবুক এখন আর শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পর্যায়ে নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম এখন উল্লেখিত কার্যক্ষেত্রগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ, প্রচার, প্রসার এবং পরিচালনাও করছে ফেসবুকের মাধ্যমে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং ফেসবুক আইডির মাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে জরুরিভিত্তিতে রক্ত প্রয়োজনের খবর, কোনো দরিদ্রের ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচের অর্থসাহায্য চেয়ে আবেদন ইত্যাদি। আর খুব সহজেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে অসংখ্য মানুষ। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

Top