বড় দুদলের দুই কৌশল

62959-ekadosh.jpg
সাগরকণ্ঠ ডটকম ডেস্ক :

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজয়মালা পরার লক্ষ্যে ভিন্ন দুই কৌশলে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গণতন্ত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও উন্নয়নে বাজিমাত করতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এই উন্নয়নকেই কাজে লাগিয়ে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ের মুকুট পরতে চাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি। এ উদ্দেশে এখন থেকেই সরকারের উন্নয়ন ও অন্যান্য বিষয় তুলে ধরে ব্যক্তিগতভাবে ব্যানার, পোস্টার, দেয়াল লিখনসহ নানাভাবে ব্যবহার করে প্রচারণা শুরু করা হয়ে গেছে। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে দলীয়ভাবেও উন্নয়নের প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করার চিন্তাভাবনা চলছে। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। খালেদার জেলে থাকাকে সাপে বর হিসেবে মনে করছে দলের অনেক নেতাকর্মী। অর্থাৎ কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ভোট চেয়ে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে আকুল নিবেদন করে ভালো ফল হবে বলে তাদের ধারণা। তাতে রথ দেখা হবে কলাও বেচা হবে বলে মনে করছেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। মানে খালেদার জন্য জনগণের মনে সহানুভূতি জাগবে এবং আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ভুলে যাবে। এ অবস্থায় খালেদার মুক্তির জন্য হলেও বিএনপিকে ভোট দেবে জনগণ। আর তখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরকারের ভালো কাজগুলোকে যতই জনগণের সামনে তুলে ধরবে কাজে আসবে না। তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরই আগ্রহ নেই বিএনপির, কান্নাকাটি করে ভোট আনার তো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে নির্বাচনই যেখানে সুষ্ঠু হবে না সেখানে এ ধরনের কৌশল কি কাজে লাগবে। বরং দলের নেতাকর্মীরা এখন আরো সুসংগঠিত হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করবে। পাশাপাশি চলবে সহায়ক সরকারের দাবি।
এদিকে বিএনপি খালেদা জিয়া দিয়ে আওয়ামী লীগের উন্নয়নকে ম্লান করার প্রচেষ্টা করলেও তাতে কোনো লাভ হবে না বলে ধারণা আওয়ামী লীগ নেতাদের। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা আমার সংবাদকে বলেছেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বৃথা। আওয়ামী লীগ গত নয় বছরে দেশে এতটাই উন্নয়ন করেছে যে, খালেদাকে জেলে রেখে ভোট কামাইয়ের কৌশল কাজে আসবে না। কারণ জনগণ বিএনপির দূরভিসন্ধি বুঝে যাবে। ফলে ভোট পড়বে নৌকার বাক্সে এবং ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগই। এজন্য আওয়ামী লীগ উন্নয়ন ও ভালো কাজের প্রচারণা এমন কৌশলে করবে যে, বিএনপি খালেদার মুক্তির জন্য কান্নাকাটি করেও আওয়ামী লীগের ভোট নিতে পারবে না। দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ, বেশ কয়েকটি ফ্লাই ওভার নির্মাণ, ঘনঘন লোডশেডিং থেকে দেশবাসীকে মুক্তি, গ্রামে গ্রামে নতুন নতুন সড়ক-ব্রিজ নির্মাণ ও স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা ভুলে খালেদা জিয়ার জেল থেকে মুক্তি পাওয়াটাকে বড় মনে করবে না জনগণ।
একাধিক আওয়ামী লীগনেতা আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১/৪১ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই ব্যাপক উন্নয়ন চলছে। এতে একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতি চাঙা হবে, তেমনি আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা হবে সহজ। তারা বলেন, বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পছন্দ নয় জনগণের। তার প্রমাণ খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরও বিএনপির আন্দোলনে সমর্থন নেই জনগণের। আর জনগণের সাপোর্ট নেই বলে বিএনপির আন্দোলনও ফ্লপ। দুর্নীতির মামলায় খালেদা ও তার পুত্র তারেক রহমানের সাজা হওয়ায় জনগণ বুঝতে পেরেছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হয় আর বিএনপি ক্ষমতা পেলে দুর্নীতি করে। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনেও জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে। নেতারা বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি দলে ক্লিন ইমেজ বাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যে সুপার গতিতে চলছে আমাদের কার্যক্রম।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ্ উদ্দিন সিরাজ আমার সংবাদকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গত ৪ বছরে আওয়ামী লীগ দেশে কি ধরনের উন্নয়ন কর্মকা- করেছে তা প্রচারণা করার জন্য দল থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনোযোগ সহকারে দলের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচারণা করছে। আগামীতে উন্নয়নের দলীয় প্রচারণা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে ইতোমধ্যেই ঘর গোছানোর কাজ পুরোদমে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি বছরে ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধ-কোন্দল মেটাতে সকল প্রকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে বোঝানোর জন্য এখন থেকেই ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত থাকে আওয়ামী লীগ। এতকিছুর পর খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির কান্নায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা কমবে না।

Top