পেকুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী সাজেদা হত্যা মামলা সিআইডিতে

MAMLA.png

স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া :
পেকুয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী সাজেদা বেগম হত্যা মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। মামলার অগ্রবতি ও অধিকতর তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা সিআইডিতে ন্যস্ত করে আদালত। সিআইডি কক্সবাজার আদালতে মামলার চার্জসীট পৌছায়। প্রেরিত চার্জ ঘটনে এজাহারনামীয় আসামীদের সম্পৃক্ত করে। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই সকালে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়। বসতবাড়ির বিরোধ চলছিল দু’পক্ষের মধ্যে। ওই দিন সকালে ভেলুয়ারপাড়ায় নুরুল আবছার ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগম বসতভিটায় টেংরাসহ ঘেরা বেড়া দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী মৃত দোলা মিয়ার পুত্র বেলাল উদ্দিন, মৃত আবু তালেবের পুত্র সাহাব উদ্দিন গং বাধা দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে বেলাল উদ্দিন গং ধারালো অস্ত্র স্বস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় নুরুল আবছারের স্ত্রী সাজেদা বেগম মারাত্মক জখম হয়। তাকে স্থানীয়রা মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি ঘটে। চমেক হাসপাতালে রেফার করে। চট্রগ্রাম যাওয়ার পথে সড়কে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় পেকুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়। এ সময় পুলিশ দুই মহিলাকে আটক করছিল। মামলায় প্রধান আসামীসহ অনেকে জেলে যায়। জামিন নিয়ে বের হয়েছিলেন আসামীরা। এরপর বাদীপক্ষকে মামলা থেকে নিরুৎসাহিত হতে অনেক হুমকি ধমকি দেয়া হয়। সুত্র জানায়, ভেলুয়ারপাড়ায় ৩৬ শতক জায়গায় বসতবাড়ি তৈরী করে নুরুল আবছার বসবাস করছিলেন। ছাবের গং ওই জায়গায় দৃষ্টি দেয়। এ সময় জবর দখলে নিতে নুরুল আবছার ও তার স্ত্রীকে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় নুরুল আবছারের স্ত্রী সাজেদা বেগম নিহত হয়। জায়গাটি বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা এলাকার করিমদাদের মালিকানাধীন। নুরুল আবছার করিমদাদের কর্মচারী ছিলেন। বেতনের টাকা কর্তন দিয়ে এ জায়গার দখল ক্রয় করছিলেন। হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল। এরপর জায়গাটির বসতবাড়ি উচ্ছেদ হয়। ফাঁকা বসতভিটা স্থিত তবে দখল নুরুল আবছারের অনুকুলে। স্ত্রী হত্যার পর নুরুল আবছার ওমানে চলে যায়। তার ছেলে দেলোয়ার ওই জায়গা মালিক করিমদাদের কাছ থেকে ক্রয় করে। মায়ের হত্যার বদলা ও প্রতিশোধ হিসেবে বসতবাড়ির অস্তিত্ব রক্ষায় তার অনুভূতি ও দৃষ্টি ছিল। এর দৃষ্টিকোণ থেকে এ জায়গা সর্বোচ্চ মুল্যে রেজিষ্ট্রি নেয় নিহত সাজেদার ছেলে দেলোয়ার। জানা গেছে, দেলোয়ারও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে অবস্থান করছেন। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বসতভিটা ফাঁকা। নেই কোন বসতি। আগে বড় বড় গাছ গাছালি ছিল। সেসব কেটে সাবাড় হয়েছে। গাছের মুল আছে। মাটির দেয়ালের বসতবাড়ি ছিল। উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ায় দেয়াল অর্ধাংশ আছে। দক্ষিন দিকে যাদুখালী ছড়া, উত্তরে ভেলুয়ারপাড়া বটতলী সড়ক। পশ্চিমে নুরুল হকের বাড়ি ও পূর্বে ছকির আলমের বসতবাড়ি। এর মাঝখানে সাজেদার এ বাড়ি। তার খুনের চিহ্ন বহন করছে বসতবাড়ির এ দৃশ্য।

Top