পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ঢেলে সাজানো হচ্ছে কুতুবদিয়া

coxBazar1-2.jpg

এম. ওসমান গণি :

কক্সবাজারের পীর-আওলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত দ্বীপ কুতুবদিয়া। এ দ্বীপের আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গ কিলোমিটার। বিরল প্রজাতির জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর। নির্জন বেলাভূমি, লবণ চাষ, বাতিঘর, কুতুব আউলিয়ার মাজারসহ আছে দেখার মতো অনেক কিছু। রয়েছে দেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পর্যটকদের নজর কাড়তে দ্বীপটিকে সাজানো হচ্ছে নতুন ভাবে।

দ্বীপের পশ্চিম উপকূলে বেড়িবাঁধের উপর নির্মিত হচ্ছে ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের জন্য দৃষ্টি নন্দন পার্ক।

পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ঢেলে সাজানো হচ্ছে কুতুবদিয়ায়  দ্বীপ

কুতুবদিয়াকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনা করার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে কুতুবদিয়া-মহেশখালী কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য  আশেক উল্লাহ রফিক  সংসদে আলোচনা করেছেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বরাবরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পত্রও প্রেরণ করেছেন।

সমূদ্র বেষ্টিত ৬ ইউনিয়ন বিশিষ্ট কুতুবদিয়ার পশ্চিমে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমূদ্র সৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে দিক দিয়ে কুতুবদিয়ায় কোন অংশেই সেন্টমার্টিনের চেয়ে কম সৌন্দর্য নয়। যেহেতু সেন্টমার্টিন একটি মাত্র ইউনিয়ন। বিখ্যাত পর্যটন হনলুলু, ওয়াইকিকি, সিসিলি এ রকম বিছিন্ন সাগর বেষ্টিত পর্যটন কেন্দ্র আজ পৃথিবীখ্যাত। কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় কুতুবদিয়ার মত একটি দারুন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র থাকার পরেও এর উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ এ পর্যন্ত নেয়া হয়নি। পর্যটন মন্ত্রণায়ের উদ্যোগে কুতুবদিয়াকে পর্যটন কেন্দ্র ঘোষনার প্রয়োজনে জরিপ কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই করার দাবি জানানো হয়।

coxBazar1 (3)

ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কুতুবদিয়ায় পর্যটনের গুরুত্ব উল্লেখ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন কুতুবদিয়া পরিদর্শনে আসেন। কুতুবদিয়া দ্বীপে সহজে আসার জন্য বাশঁখালীর ছনুয়া ঘাট হয়ে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আকবরবলী ঘাট ও ধুরুং ঘাট উন্নত মানের জেটি দিয়ে উঠানামা করা যায়। আবার পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটি দিয়ে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ স্টীমার ঘাট জেটি, দরবারঘাট জেটি ও আলী আকবর ডেইল জেটিসহ অত্যাধুনিক ৫টি জেটি দিয়ে যাত্রী ও পর্যটকরা আসা যাওয়া করে থাকে।

বাংলাদেশের মূল-ভূখন্ড থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুতুবদিয়া। এ দ্বীপের পশ্চিম উপকুল ঘেষে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ বালিয়াড়িযুক্ত প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভায়িত সৌন্দর্য্য মন্ডিত সমুদ্র সৈকত । জীববৈচিত্র্যপুর্ণ সাগর ঘেরা এ দ্বীপে বিচরণ করলে দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ, কচ্ছপ, শামুক, ঝিনুক, মাছ ধরার নৌকার সারি। আর ঐতিহাসিক বাতিঘর, প্রাচীন স্থাপত্য কালারমার মসজিদ, লবণ শিল্প, মৎস্য ভান্ডার, সম্ভাবনাময়ী সর্ববৃহৎ ভুগর্বস্থ গ্যাস ক্ষেত্র, দেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ পাইলট প্রকল্প ও দৃষ্টিনন্দন সারিসারি ঝাউবীথি।

দ্বীপের মধ্যে খানে অবস্থিত কুতুব আউলিয়ার সুযোগ্য উত্তরসুরি হযরত শাহ আবদুল মালেক আল কুতুবী (রাঃ) এর মাজার শরীফ। লেমশীখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রান্তে কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাশে বাংলাদেশ কুটির শিল্প (বিসিক) এর ঐতিহাসিক বিশাল লবণ উৎপাদন ও প্রদর্শনী খামার রয়েছে। শুস্ক মৌসুমে প্রদর্শনী বিসিক প্রকল্পে সুচারু ভাবে সাদা লবণ উৎপাদনের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটক, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও কবি লেখক সাহিত্যিক লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া স্ব-চোখে মনমুগ্ধ পরিবেশে দেখে যাওয়ার পর তাদেরকে বার বার কুতুবদিয়া আসার হাত ছানি দেয়।

কর্মব্যস্থতার মাঝে বুকের পাথর চাপা কষ্ট গুলো ভুলে মন মানসিকতাকে সতেজ করতে প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে লিলাভূমি কুতুবদিয়ায় ভ্রমণে আসলে নিঃসন্দেহে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় এমন উক্তি করেছেন অনেক রতি মহরতি জ্ঞানী ব্যক্তিরা। এ দ্বীপে চলাফেরার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা ও আবাসনের জন্য জেলা পরিষদের একটি ডাকবাংলো এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে গাড়িযোগে সোজা কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটে এসে কুতুবদিয়া চ্যানেল পার হয়ে স্পীড বোটে ৭-৮ মিনিট এবং ডেনিশ বোটে ২০-২৫ মিনিটে কুতুবদিয়া দ্বীপে আসা যায়।

Top