চট্টগ্রামে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

rape-inner20180404102834.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোখসানা পারভীন ০৪মার্চ বুধবার তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হল সুজন কুমার দাস (২২) , সমীর দে (২৪) ও যদু ঘোষ (২৫)।
জানা গেছে, পাহাড়তলী থানাধীন বাদী চন্দনা দাসের ছোট বোন পান্না রানী দাসকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় সমীর দে ও যদু ঘোষ। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় হরি মন্দিরের কাছে বটগাছের নীচে কেরোসিন রেখে দেয় আসামীরা। পান্না রানী দাস তাদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে কেরেসিন ঢেলে পুড়িয়ে মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দন্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামী একই মেছে থাকত। ঘটনাস্থলে সুজন দে কোন লোক আসে কিনা তাহা পাহারা দেয়। বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলার সময় সুজন কুমার দাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সুজন কুমার দাসকে গ্রেতারের পর আসল রহস্য বের হয়ে আসে এবং ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন শেষে বিচারক ৯(৩) ধারায় প্রত্যোককে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৭৪ ধারায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুৃমোদন ক্রমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৪ ধারায় প্রত্যোককে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকার জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।
মামলার বাদী চন্দনা দাশ জানান, ২০১১ সালের ৭ জুন আমার বোন ছোট ভাই রূপন দাশকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়। পরে বাড়ি থেকে এসে শাহাজালাল গার্মেন্টসে চাকুরী করে রাতে বাড়ি ফিরে। আমি দাঁতের ব্যাথার ওষুদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। গভী রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বোন ঘরে নাই।
খোজাখুজি করলে দুই একজন জানান, রাত দেড়টার দিকে দেখেছি বৃৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে। পরদিন ৮ জুন কাট্টলী হরিমন্দিরের পাশে পোড়ানো অবস্থায় আমার বোনকে পুড়িয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বোড় বোন চন্দনা রানী দাশ পিতা-ধনারঞ্জন দাস বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা করেন ৩০২(৩৪) ধারায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশীট দিলে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল চার্জ গঠন করেন বিচারক। একই আদালতে ভুজপুর থানার অপর মামলায় গত ৩ এপ্রিল শারমিন আক্তার(৮) শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক।

Top