পেকুয়ায় অপচিকিৎসায় গর্ভবতীর মৃত্যু

bul-CHIKITSA.jpg

মো: জালাল উদ্দিন, পেকুয়া :
পেকুয়ায় জেনারেল হাসপাতালের অপচিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এক গর্ভবতী আয়েশার। প্রসব বেদনা হচ্ছিল। এ সময় তাকে পেকুয়ায় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তাকে ডিএনসি করানো হয়। এ সময় তিনি ভূল চিকিৎসায় পতিত হন। পরে ২ সন্তানের এ জননীকে চকরিয়া এশিয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করে। প্রায় ৪ দিন চমেকে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তার মৃত্যু হয়। গত ১৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ২ টার দিকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। হতভাগা ওই নারীর নাম আয়েশা বেগম(২৪)। তিনি রাজাখালী ইউনিয়নের হাজীরপাড়া এলাকার দিনমজুর ফজল করিমের স্ত্রী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রে হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে। ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে এমন সংবাদে সাধারন মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সুত্র জানায়, আয়েশা বেগম ১৫ এপ্রিল পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি সন্তান সম্ভাব্য প্রসূতি ছিলেন। প্রসব বেদনা বেড়ে যায়। এ সময় স্বামী তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: রুবেল সাদাত চৌধুরী তাকে ডিএনসি করাতে পরামর্শ দেয়। সেখানে আয়েশা বেগমের জরায়ুতে ডিএনসি করানো হয়। ওই চিকিৎসা ছিল তার জন্য কাল। সুত্র জানায়, জেনারেল হাসপাতালের রুবেল সাদাত একজন এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক। তিনি কোন গাইনী বিশেষজ্ঞ নন। এমনকি ডিএনসি করার মত জটিল চিকিৎসা সম্পর্কে ও তার সম্পূরক অভিজ্ঞতা নেই। তবে তিনি ওই প্রসূতিকে জটিল এ চিকিৎসা করতে পিছপা হননি। এক পর্যায়ে ভূল চিকিৎসায় সর্বনাশ ঘটে দরিদ্র ও দিনমজুরের স্ত্রীর। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হয়। ওই মহিলার জরায়ু চিরতরে বিনষ্ট করা হয়। এমনকি প্রস্রাবের নালী কেটে ফেলানো হয়। এ সময় রক্তশুন্যতা দেখা দিয়েছিল। চমেক হাসপাতালের গাইনী বিভাগে তাকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। তাকে দৈনিক ৫ ব্যাগ করে রক্ত দেয়া হত। ১ দিন আগে তাকে ওই হাসপাতালের আইসিওতে স্থানান্তরিত করা হয়। তার জীবন প্রায় বিপন্ন হওয়ার মত অবস্থায় পতিত হন। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। নিবিড় পর্যবেক্ষনে চিকিৎসকরা তাকে বাচানোর প্রানপন চেষ্টা করে। কিন্তু নিয়তির কাছে হার মানল আয়েশার জীবন প্রদীপ। স্বামী ফজল করিম জানায়, আমার স্ত্রী ৭ মাসের গর্ভবতী। ২ সন্তানের জননী। ১৫ এপ্রিল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে অস্ত্রোপাচার করা হয়েছে। যা ছিল ভূল চিকিৎসা। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে চট্রগ্রামে নিয়ে যায়। আমার স্ত্রীর সর্বনাশ ঘটানো হয়েছে। তারা কাগজপত্র ও চিকিৎসার যাবতীয় তথ্য গোপন করার চেষ্টা করে। এ মৃত্যুর জন্য জেনারেল হাসপাতাল দায়ী। পেকুয়া জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরান জাদীদ মুকুট জানায়, মহিলাটি ডিএনসি ডাক্তার রুবেল সাদাত থেকে করেছে। ডাক্তার একদিন আমার হাসপাতালে ছিল। এখান থেকে রোগী কি জন্য নিয়ে গেছে আমার জানা নেই।

Top