প্রতিবাদ করায় হলের ফটক থেকেই বিদায়!

7f3f29f32f3913172e184d44103439ad-5ad9926082eda.jpg

বৃহস্পতিবার রাতে কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার ঘটনায় একাই প্রতিবাদ জানান ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ইয়াসিন আরাফাত।

সাগরকণ্ঠ ডটকম ডেস্ক :
ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিজের হলে ঢুকতে পারেননি। স্যার এফ রহমান হলে ফেরার সময় ছাত্রলীগ তাঁকে ফটক থেকেই ফেরত পাঠিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান ইয়াসিন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর প্রতিবাদে রাত দেড়টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ইয়াসিন আরাফাত একাই প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অবস্থান নেন। পরে রাত দুইটার দিকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা ইয়াসিনের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ করেন।

ভোররাত ৪টার দিকে স্যার এফ রহমান হলের ফটক থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সুফিয়া কামাল হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে রাত দেড়টার দিকে একা প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেন। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। ওই সময় ইয়াসিন আরাফাত সুফিয়া কামাল হলের প্রাধক্ষ্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

রাতেই সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা শুক্রবার বিকেল চারটায় বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করলে রাতের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করেন আরাফাত। তারপর হলের দিকে ফেরত যান। ওই সময় হলের ফটকে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানসহ অনেকে অবস্থান নেন। হলে ঢোকার সময় তাঁরা ইয়াসিনকে ডেকে সতর্ক করেন এবং হলে ঢুকতে বাধা দেন।

ইয়াসিন আরাফাত জানান, ‘ছাত্রলীগের মাধ্যমেই হলে উঠেছিলাম। প্রতিবাদ করে ফেরার পর ছাত্রলীগের নেতারা আমাকে ডাকেন। বিক্ষোভে কেন গেলাম, তা জানতে চান। হলে উঠলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়িত্ব নেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ ছাড়া নানা হুমকি দেওয়া হয়। আমাকে চলে যেতে বলা হয়। আমাকে রুমে রাখার জন্য রুমমেটকে শাসানো হয়।’

জানতে চাইলে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আরাফাত হলে ঢোকার সময় আমরা ফটকেই ছিলাম। সে আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী, তা জানতে চেয়েছি। সে হলে আছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানি না।’

সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমি তো তাকে চিনিই না। তার রুমমেটকে চিনি। তার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

হলের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হলের ফটকে ইয়াসিন আরাফাতকে ডেকে অনেকক্ষণ কথা বলেছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরে তাঁকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে।’

সূত্র : প্রথম আলো

Top