ছুরিকাঘাতে গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারী খুন

KUN.jpg
দলিল আহমদ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফে ছুরিকাঘাতে গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারী খুন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে (নিবন্ধিত) তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ছুরিকাঘাতে ৪ মাসের গর্ভবতী আনছার বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এঘটনায় শিশুসহ ৫জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে। ২৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের ডি বøকে এঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে মৃত ছিদ্দিক আহমদের পুত্র মকবুল আহমদ (৭৫) দীর্ঘ দিন ধরে মোদির দোকান ব্যবসা করে আসছিল। বৃহস্পতিবার ২৬ এপ্রিল উক্ত দোকানের সম্মুখে ছৈয়দ আহমদ নামে এক রোহিঙ্গা কবিরাজ ঔষধী গাছ বসিয়ে ঔষধ বিক্রি করছিল। দোকানদার উক্ত কবিরাজকে দোকানের সম্মূখ হতে স্থান পরিবর্তনের জন্য বললে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা ও তর্কাতকি হয়। এক পর্যায়ে কবিরাজের স্ত্রী দিল বাহার ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে পড়লে ঘটনাটি উভয় পরিবারের মধ্যে বড় আকারে ধারণ করে। এঘটনার ছৈয়দ আহমদ কবিরাজের পক্ষ হয়ে ছালেহ আহমদসহ তার পরিবারও জড়িয়ে পড়ে। পরে পার্শ্ববর্তীদের হস্তক্ষেপে ঝগড়া থেমে যায়।
আবার বিকাল ৩টার দিকে উক্ত ঘটনার জের ধরে ছালেহ আহমদের পুত্র ইব্রাহীম উত্তেজিত হয়ে মোঃ ইলিয়াছের স্ত্রী আনছার বেগম (৪০) এবং তার পিতা মকবুল আহমদকে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে আনছার বেগম এমআরসি নং-৩৩৩৩৫, ডি বøক, বাসা নং- ৭৩২/৭ নিহত হন। এসময় উভয় পক্ষের শফিউল্লাহর পুত্র মোঃ রফিক (১৬) ও মোঃ সোহেল (১১), ছালেহ আহমদ, ছালেহ আহমদের স্ত্রী দিলবাহার ও পুত্র ইব্রাহীম আহত হয়। গুরুতর আহত দোকানদার মকবুল আহমদকে আশংকাবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে ক্যাম্পের কর্তব্যরত চিকিৎসক। খবর পেয়ে নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
এঘটনায় আহত ৩ জনসহ ৬ জনকে আটক করেছে ক্যাম্প পুলিশ। এর মধ্যে ৩জনকে পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ এবং অপর তিনজনকে টেকনাফ মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে। ধৃতরা হচ্ছে, ছালেহ আহমদ, ছালেহ আহমদের স্ত্রী দিলবাহার ও পুত্র মোঃ ইব্রাহীম, ইউসুফ, ছৈয়দ আহমদ ও ছৈয়দ আহমদের পুত্র আবুল মাসন প্রকাশ মোঃ হোছন।
এদিকে নিহতের বোন দেলোয়ারা জানান, নিহত আনছার বেগম ৪ মাসের অন্তঃস্বত্তা এবং ৫ সন্ত্রানের জননী ছিলেন।
নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ কবির আহমদ ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে বলেন, ‘এঘটনায় ৬ জনকে আটক এবং এর মধ্যে আহত ৩ জনকে কক্সবাজার হাসপাতালে ও অপর ৩জনকে টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার ঘটনাস্থলে টহলে রয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
Top