রমজানকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট, প্রশাসনের নজরদারীর তাগিদ

Mit.jpg

সাগরকণ্ঠ ডটকম রিপোর্টঃ

পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের নিত্যপণ্যের বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কারণ ছাড়াই দাম বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমেছে এ চক্রটি। ফলে বাড়তে শুরু করেছে রমজাননির্ভর প্রতিটি পণ্যের দাম। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। তাঁরা মনে করেন প্রশাসনের নজরদারী বাড়িয়ে ঘন ঘন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
উর্ধ্বমুখি পণ্যের মধ্যে পিয়াজ ও বেগুন অন্যতম। রমজানের আগেই পণ্য দুটির কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এ ছাড়া উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোজ্য তেল, ছোলা, চিনি, ডাল, রসুন, আদা, খেজুর সহ বিভিন্ন পন্য।
বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ করে চাহিদা বাড়ায় টান পড়েছে যোগানে। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে রমজানের প্রধান ভোগ্য পণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালেই থাকবে বলে মনে করেন তারা। আর ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার কারসাজির মাধ্যমেই জিম্মি করা হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কাউছার ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অজিত কুমার দাশ হিমু বাজার জরিপ করে জানান, সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রোজার মাসে কেউ যদি পণ্যের দাম বাড়ান তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। তাঁরা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম কমে। কিন্তু আমাদের দেশে রমজান মানেই ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি মুনাফা আয়ের মধ্যম। এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট অনুযায়ী সরকার ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। দুই-তিন বছর আগেও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেল বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কাঙ্খিত খুচরা মূল্য কত হওয়া উচিত, তা হিসাব করত। এখন আর তা করা হয় না। এমনকি ভোজ্যতেল ও চিনির দর নিয়েও কোনো বিশ্লেষণ করেনা মনিটরিং সেল।
তাই রমজানের শুরুতেই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাড়তে শুরু করেছে রমজাননির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রমজানের আগেই বাজার পর্যবেক্ষণের আহ্বান তাদের।
সূত্রে জানা গেছে, বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ভোজ্য তেল, ছোলা, চিনি, ডাল, রসুন, আদা, খেজুর সহ বিভিন্ন পন্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যগুলোর দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আর মাসের ব্যবধানে ছোলার দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। রসুনের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২৫ টাকা। দাম বেড়েছে আদারও। কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে আদার দর।
বড় বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, পেয়াজের পাইকারী বাজার হচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। আমরা সেখান থেকে ক্রয় করি। সেখান থেকে ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে কেনা হয়। আর বিক্রি হচ্ছে ৩৯ থেকে ৪০ টাকা প্রতি কেজি। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পিয়াজের পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩৫ টাকায়। এ ছাড়া আদা ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা ও রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। ভারত থেকে আমদানিকৃত পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা প্রতি কেজি। এ ছাড়া রসুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা এবং আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।
সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, গেল এক বছরের ব্যবধানে পিয়াজের দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। আর গত এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ।
এদিকে ছোলা, ডাল ও চিনির দাম বাজার ভেদে একেক রকম। বাজারে ছোলা প্রতি কেজি ৮০-৮৫ টাকা, মসুর ডাল ৬০-৭০ টাকা এবং চিনি ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো বাজারে ছোলার দাম উঠেছে ১১০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া স্বাভাবিক ভাবে বাজারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকার ছোলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। অর্থাৎ মান ভেদে কেজিপ্রতি ছোলার দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম খাদ্য উপাদান খেজুর। খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ৩০০ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।
বাজার ঘুরে আরো দেখা গেছে, মসুর ডালের দাম প্রতি কেজি ৬৫-৮০ টাকা। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকায়। মসুর ডাল প্রকার ভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা আর প্রতিকেজি বেসন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, কিছু দিন আগেও বেশন আর মসুর ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দামটা বেড়েছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। একই অবস্থা রসুনেরও। প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।
সচেতন মহল মনে করছেন প্রশাসনের নজরদারী বাড়িয়ে ঘন ঘন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।

Top