পেকুয়ার কাঁকপাড়ায় রিংবাঁধের কাজ শেষের পথে

20180528_151102.jpg

জালাল উদ্দিন,পেকুয়া:
পেকুয়ায় মগনামা ইউনিয়নের কাঁকপাড়ায় সমাপ্তের পথে রিংবাঁধ। মাজার পয়েন্টে বেড়িবাঁধের বিলীন অংশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ রিংবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ রিংবাঁধ তৈরী করছে। উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিম ও সর্বদক্ষিন অংশ কাঁকপাড়া মাজার পয়েন্টে প্রায় ৪২ চেইন বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। ওই অংশে গত ৩ বছর ধরে বেড়িবাঁধ নেই। বিলীন অংশ দিয়ে সাগরের লোনা পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বেড়িবাঁধ কুতুবদিয়া চ্যানেলের নদীর চরের সাথে একাকার হয়। এতে করে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে মগনামা ইউনিয়নের অবকাঠামোসহ বিপুল বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান এর মালিকানাধীন বেড়িবাঁধ সংষ্কার কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। শরতঘোনা থেকে কাঁকপাড়া পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংষ্কারকাজ বিগত ২ বছর আগে থেকে শুরু হয়েছে। সুত্র জানায়, মাটি ভরাট ও আরসিসি ব্লক স্থাপনসহ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজের সময়সীমা ৩ বছর পর্যন্ত। তবে মাটি ভরাট মগনামার পশ্চিম অংশের দৈর্ঘ্য বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান। পৃথক ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সংষ্কারকাজ বাস্তবায়ন করছে। তবে কাঁকপাড়া পয়েন্টে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন অংশে কাজ বাস্তবায়ন নেই। বেড়িবাঁধের ওই অংশের ১৭ চেইন বর্তমানে খোলা। এতে করে হাজার হাজার মানুষের শংকা তৈরী হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধের বিলীন অংশ দিয়ে লোকালয় প্লাবিত হওয়ার শংকা দেখা দেয়। মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম কাঁকপাড়া মাজার পয়েন্টে বেড়িবাঁধের বিলীন অংশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মাণ করছেন রিংবাঁধ। গত এক সপ্তাহ আগে থেকে ওই অংশে রিংবাঁধ তৈরীর কাজ চলমান আছে। শেখ আবদুল আজিজ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় এর উত্তর অংশ থেকে মাজারের দক্ষিন অংশ পর্যন্ত প্রায় ১৭ চেইন বেড়িবাঁধে বিলীন অংশে রিংবাঁধ তৈরীর কাজ চলছে। সাগরের প্রচন্ড ঢেউ ও পানির তীব্র ¯্রােত টেকাতে নির্মিত রিংবাঁধে বিছানো হচ্ছে জিও টেক্সটাইল। মাটি ভরাট ও টেক্সটাইল খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। এ সব অর্থের যোগান দেয় চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম জানায়, রিংবাঁধ তৈরী চেয়ারম্যানের দৃষ্টিনন্দন ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কাজ চলছে রিংবাঁধ নির্মিত না হলে মগনামার ৫০ হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হবে। অর্থনীতির মারাত্মক হ্রাস তৈরী হবে। শফি আলম,রবি আলম, গৃহবধূ জাহানারা বেগম, জাহেদা বেগমসহ কাঁকপাড়ার স্থানীয়রা জানায়, জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ এলাকা ছাড়ে। রিংবাঁধ না থাকলে কাঁকপাড়ায় বর্ষার সময় বসবাস করা যাবে না। সরকারের নিকট দাবী করছি। আমাদের জানমাল রক্ষা করতে বেড়িবাঁধকে টেকসই করতে হবে। মগনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী মজিদা, ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী নিশাদ, বুশারা বেগম, ছাত্রী নয়ন মনি জানায়, আমাদের বাপদাদার বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ২ বছরে অনেকদিন স্কুলে যেতে পারেনি। পরিবার নিয়ে বর্ষার সময় অন্য জায়গায় বসবাস করি। শেখ আবদুল আজিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম, সহকারী শিক্ষক নার্গিছ আক্তার জানায়, স্কুল ভবন সাগরগর্ভে বিলীন হওয়ার সন্নিকটে। বেড়িবাঁধ অনেক পশ্চিমে ছিল। বর্তমানে স্কুল ভবন ঘেষে রিংবাঁধ হয়েছে। বর্ষায় সাগরের গর্জনে প্রানে পানি থাকে না। সন্দেহের মধ্যে শ্রেনী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবানের এরিয়া কর্মকর্তা(এসও) গিয়াস উদ্দিন জানায়, পানি ঠেকাতে কাজ চলছে। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে বেড়িবাঁধ সংস্কার অংশে বর্ষার সময় রিংবাঁধ দিয়ে জোয়ার ঠেকাতে।

Top