শেখ হাসিনার হাত ধরেই সাগর তীরে হোক নতুন দিনের সুর্যদ্বয়

Untitled-222.jpg

।। অজিত কুমার দাশ হিমু ।।

১৬ই ডিসেম্বর ৪৭তম মহান বিজয় দিবসের শুভলগ্নে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে জানাই বিজয়ের রক্তিম শুভেচ্ছা। লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাঙালীর স্বাধীনতার আকাঙ্খা বাস্তবে রূপ লাভ করেছিল ১৯৭১ সালের এই দিনে। ফলে প্রতি বছর এই দিনটিকে জাতি স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের সাথে।
আজ জাতীয় ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে আনন্দ-বেদনা এবং গর্ব ও লজ্জার নানা ঘটনা এমন পেক্ষাপটে বিজয়ের দামামা বাজানোর পাশাপাশি আমাদের পালন করতে হবে আত্মসমালোচনার দায়িত্বও। কারণ আত্মসমালোচনা ছাড়া কোনো জাতি তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না।
ইতিহাসের পাঠক মাত্রই এ কথা জানেন যে, এই জনপদের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খা দীর্ঘ দিনের একটি লালিত বিষয়। স্বাধীনতার লক্ষ্যে তারা যুদ্ধ করেছে ইংরেজদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের জালেম শাসকদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার এই দীর্ঘ পরিক্রমায় নেতৃত্ব প্রদানের জন্য আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকি নবাব সিরাজউদ্দৌলা, শহীদ তিতুমীর, নবাব সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরও অনেক মহান নেতাকে। তবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জাতির স্থপতি হিসেবে আজ স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা জানি যে, স্বাধীনতা অর্জনের চাইতেও কঠিন বিষয় হলো স্বাধীনতা রক্ষা এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা। এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত না হলে স্বাধীন রাষ্ট্রও পরিণত হতে পারে ব্যর্থ রাষ্ট্রে। এই বিষয়টি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেশ ভালভাবেই উপলব্ধী করেছিলেন। তাদেরসহ এ বিজয়ে যারা অবদান রেখেছে তাদেরকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই।
পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ‘মাদার অব হিউম্যানিটি দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। বাঙলাদেশ এখন তলা বিহীন ঝুড়ি নয়, উন্নয়নের ব্যাপক অগ্রগতিতে বাঙালি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্ব দরবারে আজকের বাঙলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। দেশ এগিয়েছে অনেক দূর, যা চোখে পড়ার মতো। বিশ্ব দরবারে নন্দিত শেখ হাসিনার সরকার তথা মহাজোট সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে যে উন্নয়ন হয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সময়ের ব্যবধানে দেশে এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে দেশে দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে আশাতীতভাবে, এটা সাধারণ মানুষের কথা নয়, এটা বিশ্ব ব্যাংকের জরিপ।
অবকাঠামোসহ নানা খাতে বর্তমান সরকার প্রতি বছর ব্যয় করছে লক্ষ কোটি টাকা। বিগত দিনের সরকার গুলোকে খাদ্য চাহিদা পূরণ ও বাজেট বাস্তবায়নে বিদেশীদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। এখন বাংলাদেশ আর খাদ্য সহায়তা নেয় না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বির্নিমানে পদ্মা সেতুর মতো বড়ো বড়ো প্রকল্পও নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে উড্ডয়ন হয়েছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ এর কাজ ইতোমধ্যে সরকার হাতে নিয়েছে। আর্থিক খাতে বড়ো প্রকল্প বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার সরকার সফলতা দেখিয়ে আসছে। অর্থনীতিতে আমাদের প্রায় সব অর্জন এসেছে খেটে খাওয়া মানুষের হাত ধরে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণে সরকার গ্রহণ করেছে মেঘা প্রকল্প। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো প্রকল্প হিসেবে মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে ‘স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’- এর আওতায় তৈরী পোশাক শিল্প, নির্মাণ শিল্প, তথ্যপযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, চামড়া এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ হয়েছে। কৃষি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। উন্নয়নের গতি অব্যাহত, লক্ষ অর্জনে কেবলই অর্থ সংকট বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারেও বাস্তবায়িত হচ্ছে ৩ লক্ষ কোটি টাকার মেঘা প্রকল্প সমূহ। যা বর্তমানে দৃশ্যমান হচ্ছে।
৪৭তম বিজয় দিবসে আমাদের আকাঙ্খা হোক ‘মাদার অব হিউম্যানিটি দেশরত্ম শেখ হাসিনার হাত ধরেই সুর্যাস্তের এই সাগর তীরে নতুন দিনের সুর্যদ্বয়।
আজকের এই বিজয় দিবসে “সাপ্তাহিক সাগরকন্ঠ ও সাগরকন্ঠ ডটকম’র প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, সকল প্রতিনিধি ও কলাকুশলী, শুভানুধ্যায়ী সবাইকে জানাই ৪৭তম বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ও অভিবাদন।

Top