নির্বাচনের প্রভাবে কক্সবাজার পর্যটক শূণ্য

2.jpg
সাগরকণ্ঠ ডটকম ডেস্ক :

নির্বাচনি সহিংসতা এড়াতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন পর্যটকরা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মূলত পর্যটকদের আগমন হ্রাস পেয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটিতে কিছু পর্যটকের আগমন হতে দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। গত ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে অধিকাংশ হোটেল মোটেলেও রুম বুকিং বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনের পর, অর্থাৎ আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে পর্যটকরা কক্সবাজারে পুরোদমে যেতে শুরু করবেন বলে আশাবাদী পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেছেন, ‘কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে আসা শুরু করেন। কিন্তু এ বছর রাজনৈতিক অবস্থার কারণে কক্সবাজার পর্যটক নেই বললেই চলে। অবশ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আবারও চাঙ্গাভাব শুরু হবে।’

জানতে চাইলে সী-গার্ল হোটেলের সহকারী ম্যানেজার নুর-এ আলম মিথুন জানান, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সহিংস ঘটনার আশঙ্কায় হোটেলে তেমন বুকিং হচ্ছে না। বিশেষ করে ২৪ ডিসেম্বরের পর থেকে আমাদের হোটেলে কোন বুকিং নেই। বিজয় দিবসের ছুটিতে যে পরিমাণ পর্যটক এসেছিলেন, তাও মুহুর্তে উধাও হয়ে গেছে’।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খানের ভাষ্য, ‘নির্বাচনি সহিংসতার আশংকায় কক্সবাজারে পর্যটক নেই বললেই চলে। গত বছরের ডিসেম্বরের এই সময়ে ২০ থেকে ৩০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। অথচ এই বছর পুরো ডিসেম্বর মাসের এ পর্যন্ত ১০-১৫ লাখের মতো পর্যটক এসেছেন। গত দুইদিন ধরে পর্যটকদের প্রত্যাশিত উপস্থিতি নেই।’

পর্যটকদের সুবিধার্থে আলাদা বিনোদন জোন গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (পর্যটন ও প্রটোকল) এসএম সরওয়ার কামাল জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন বাড়াতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ পর্যটন, নাফ ট্যুরিজম, ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মেরিন ড্রাইভ রোডকে ঘিরে ১০টি আলাদা জোনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে করে বিদেশী পর্যটকদের আগম বাড়বে’।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের ভাষ্য, ‘বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের অধিকতর নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, নির্বাচনের পরপরই জানুয়ারি থেকে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম হবে কক্সবাজারে। এজন্য আমরা এসব পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো। কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়াতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারমধ্যে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রেল লাইন প্রকল্পের কাজও শুরু হয়েছে। টেকনাফে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের জন্য জমি অধিগ্রণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কাজও চলছে।’

Top