কক্সবাজারে মহাসড়ক ব্যরিকেড দিয়ে চাঁদা নিচ্ছে এরা কারা !

20191021_044354-696x613.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কক্সবাজার বাস টার্মিনালের বাইরে প্রকাশ্যে মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে চালক ও হেলফারদের পিটিয়ে টাকা নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজচক্র!

প্রতি রাত-দিন ২৪ ঘন্টায় দুই দফায় পালা করে ( কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালিকা মাদ্রাসা গেইটের বিপরীত) যানবাহন থেকে টোলের নামে লাখ লাখ টাকার অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫’শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজির কারণে যানজটের কবলেও পড়ছে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ। পৌরসভা থেকে বাস টার্মিনাল ইজারার দোহায় দিয়ে এধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। এতে করে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু চাঁদবাজকে আটক করে উত্তমমধ্যম দিলেও তা বন্ধ হয়নি।

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক রেহায় পাচ্ছে না ইজারাদারদের গণহারে চাঁদাবাজি থেকে । বিভিন্ন টোকেন, নামে বেনামে অপরিচিত শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতির নামে কক্সবাজার পৌরসভার কথিত টোলের নামে চাঁদা। আদায়ের কারনে ক্ষতির শিকার হয়েছেন পর্যটকরা। ফলে আাগামিতে এর প্রতিকার করা না গেলে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে পর্যটক হ্রাস পাবার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখিন হবে। বিভিন্ন যানবাহনের মালিক, চালক, পর্যটকদের সাথে আলাপকালে চাঁদাবাজির ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে।

সুত্রমতে,  সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ এলাকায় মহাসড়কে নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বাস ও ট্রাকসহ যন্ত্রচালিত সব ধরনের পরিবহন থেকে টোল আদায় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও কক্সবাজার বাস টার্মিনালের বাইরে মহাসড়কে তা মানা হচ্ছে না। এঘটনায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয় দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ এলাকার মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের পরিবহন থেকে টোল আদায় না করতে ২০১৫ সালে ৩ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেন। কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দ্র নাথ সাহা ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই  রিটটি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ সরকারের প্রতি ওই নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় (কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালিকা মাদ্রাসা গেইটের বিপরীত) পৌরসভা কর্তৃক ইজারাদাররা মহাসড়কে বেআইনি টোল আদায় করছে বেশ কয়েকজন যুবক।

তারা বলেন, পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে, কিন্ত সেখানে টোলের কোন তালিকাও নেই। শুধু মাত্র যানবাহন শ্রমিকদের ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে হরেক রকমের স্লিপ।

বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা যায়, বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় পর্বে, সরকারী ছুঠির দিনে বেশি যানবাহন আসেন কক্সবাজারে। এছাড়াও সারাবছর ধরেই কক্সবাজারে যানবাহন চলাচল করে। সেই সুযোগে পৌরসভা কতৃক বাস টার্মিনাল ইজারা নেয়া প্রতিষ্ঠানের অধিক্ষেত্ররা টার্মিনালের বাইরে গিয়ে যানবাহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বেআইনীভাবে টোল আদায় করছে। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে প্রতিদিন অন্তত কয়েক লাখ টাকা টোলের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। একইসঙ্গে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা দেখা দিচ্ছে। তাছাড়া পৌরসভার সড়ক ও মহাসড়কে এ ধরনের টোল আদায়ের কোন অনুমোদন নেই।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ও পরিবহন মালিক নেতা নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, নির্দেশনার পরেও দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার পৌরসভার ইজারাদার নামে কতিপয় ব্যক্তি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বাহিরে ( কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালিকা মাদ্রাসা গেইটের বিপরীত) প্রতি দিন-রাত কক্সবসজার পৌরসভার মেয়রের নির্দেশ অমান্য করে ও জেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস থেকে ৩০ টাকা থেকে ৫০০টাকা হারে অবৈধ ভাবে চাদাঁবাজি করেই যাচ্ছে।

এব্যাপারে আমি জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম জেলা আইন শৃংঙ্খলা কমিটি বরাবরে একাধিকবার ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিকার প্রার্থনা করেও কোনো ধরনের প্রতিকার পাইনি।

নঈমুল হক চৌধুরী মনে করেন, বেআইনি টোল আদায়ের কারণে এর প্রভাব যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খরচের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে বেশিরভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এটি চলতে পারে না। তাই সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ ধরনের টোল আদায় বন্ধ করা অবশ্যয় প্রয়োজন।

নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল আরো বলেন, টোল আদায় বন্ধের নির্দেশনার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ বেআইনীভাবে টোল আদায় করে সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তিনি বলেন, পুলিশ ফৌজদারি বা চাঁদাবাজির মামলাও নিতে পারে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।

এসব চাঁদাবাজ কিভাবে ইজারা পায় এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়না এ ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দিয়েছে সর্বমহলে।

পর্যটকবাহি যানবাহনের কাছ থেকে ইজারা চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়কারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি উঠেছে।

উচ্চ আদালতের  নির্দেশনার পরেও দীর্ঘদিন যাবৎ কক্সবাজার পৌরসভার নাম ভাঙ্গিয়ে সম্পু্র্ন অবৈধ ভাবে ৩০ টাকা থেকে ৫০০টাকা করে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

Top