কাজী ফিরোজ রশীদই বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল

471.jpg
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি :
জাসদের দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম আজ এক বিবৃতিতে গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) সোমবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপির অনুপস্থিতিতে তার নাম উল্লেখ করে ‘আপনারা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কত লোককে গুলি করে মেরেছেন? হাজার হাজার কর্মীকে মেরেছিলেন। থানা, ফাড়ি লুট করেছিলেন। সেদিন যদি আপনারা এগুলি না করতেন বঙ্গবন্ধুকে মারার দুঃসাহস কেউ করতো না। আপনারা বঙ্গবন্ধুকে মারার পথ তৈরি করেছিলেন’ বলে প্রদত্ত বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন। জনাব কাইয়ূম বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়ে অপর একজন সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তার অনুপস্থিতিতে বক্তব্য দেয়ার সাধারণ সংসদীয় রীতি-সৌজন্য সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের দৈন্যতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন কাজী ফিরোজ রশীদ। জনাব কাইয়ূম বলেন, কাজী ফিরোজ রশীদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ বিদ্বেষপ্রসূত, মনগড়া এবং অসত্য। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আদর্শিক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিল। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের একজন কর্মীকেও হত্যা করেনি। কোনো থানা বা ফাড়ি লুট করেনি। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের কোনো কর্মী বা থানা-ফাড়ি লুটের অভিযোগে জাসদের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা, বিচার বা সাজাও হয়নি। জনাব কাইয়ূম বলেন, জাসদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথও তৈরি করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এফআইআর, তদন্ত, চার্জশীট, চার্জ হেয়ারিং, চার্জ গঠন, বাদী ও সাক্ষীদের সাওয়াল-জবাব ও জবানবন্দী, রায়, রায়ের পর্যবেক্ষনে কোথায়ও বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জাসদের কোনো পর্যায়ের কোনো নেতার সামন্যতম সম্পৃক্ততার বিষয়ও আসেনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দুঃখভারাকান্ত হৃদয়ে প্রায়ই বলে থাকেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তারা কেউই দূরের লোক না। আপন লোক। খন্দকার মোশতাক, ফারুক, ডালিম, নুর, পাশাসহ হত্যাকারীরা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনেই নিয়মিত যাতায়াত ও উঠাবসা করতো।’ জনাব কাইয়ূম বলেন, জাসদ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী অবৈধ ক্ষমতাদখলদার ও সামরিক শাসকদের সাথে হাত মেলায়নি। জাসদ বঙ্গবন্ধু হত্যার সুফল ভোগীও নয়। বরং জাসদ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী খুনী মোশতাকসহ সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিল। আপসহীন সংগ্রাম পরিচালনা করেছিল। খুনী মোশতাকের শাসনামলে জাসদের কয়েক শত নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। জাসদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে করাগারেই থাকতে হয়েছিল। জনাব কাইয়ূম বলেন, কাজী ফিরোজ রশীদই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাষায় ‘চাটার দল’ এর একজন হোতা। এই ‘চাটার দল’ শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তীই বিনষ্ট করেনি, এ ‘চাটার দল’ই বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল। ‘চাটার দল’ এর অন্যতম হোতা কাজী ফিরোজ রশীদ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যুবলীগ ত্যাগ করে সামরিক শাসকদের ‘পা চাটা কুকুরে’ পরিণত হয়ে সামরিক শাসকদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে গায়ে গতরে মোটা হয়ে এখন ঘেউ ঘেউ করছে। সামরিক শাসকদের ‘কুকুর’ হিসাবে কাজী ফিরোজ রশীদ ও তার ভাই কাজী মন্টু গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় যে লুটপাট-অত্যাচার-ত্রাসের রাজত্ব কায়েম এবং ঢাকায় পেশাদার পকেটমার ছিনতাইকারী-চাঁদাবাজ-খুনীসহ অপরাধীগোষ্ঠী গড়ে তোলার কাহিনী কেউ ভুলে যায়নি। জনাব কাইয়ূম বলেন, কুকুরের ঘেউ ঘেউ যেমন বাতাসে মিলিয়ে যায়, তেমনই কাজী ফিরোজ রশীদ জাসদের বিরুদ্ধে যতই ঘেউ ঘেউ করুক তা বাতাসেই মিলিয়ে যাবে।
Top